গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম টানা অষ্টমবারের মতো কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় বিশ্বব্যাপী দুধ উৎপাদনের দ্রুত বৃদ্ধি দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর এগ্রিল্যান্ড, ফারমার্স উইকলি ও ইডেইরিনিউজ।
সর্বশেষ জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে আগেরটির তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। টনপ্রতি গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০৭ ডলারে, যা চলতি বছরের মে মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ কম।
দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান ফন্টেরা চলতি মৌসুমের গড় মূল্য পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। এ সময় দুধের দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজিএমএস (কিলোগ্রাম অব মিল্ক সলিডস) ৯ ডলার ৫০ সেন্ট, যার প্রক্ষেপিত সীমা ৯-১০ ডলার এবং এটি আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৫০ সেন্ট কম।
ফন্টেরার ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। এবারের নিলামে পণ্যটির দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৩ হাজার ৩৬৪ ডলারে নেমে এসেছে।
ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিবিহীন গুঁড়া দুধ। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম স্থির হয়েছে টনপ্রতি ২ হাজার ৪৬৮ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের (এনজেডএক্স) ডেইরি অ্যানালিস্ট রোজালিন্ড ক্রিকেট বলেন, ‘বিশ্বের সাতটি বড় দুধ উৎপাদনকারী দেশ ও অঞ্চল থেকে সরবরাহ দ্রুত বাড়ছে। এ কারণে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম দ্রুত কমছে।’
জিডিটি নিলামে মাখনের দাম ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৫ হাজার ১৬৯ ডলারে নেমেছে। এ সময় অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের (এএমএফ) দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৫ হাজার ৯০২ ডলারে স্থির হয়েছে।
জিডিটির সর্বশেষ নিলামে মোট ৩৪ হাজার ২০০ টনের বেশি পণ্য বেচাকেনা হয়েছে। এ সময় মোজারেলা পনিরের দাম ১ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৩ হাজার ১৮২ ডলারে নেমে এসেছে। তবে এবারের নিলামে চেডার পনিরের দাম ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৬৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় ল্যাকটোজ ও বাটার মিল্ক পাউডারের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ ও ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে নিউজিল্যান্ডের বাড়তি উৎপাদন। ফন্টেরার গ্লোবাল ডেইরি আপডেট অনুযায়ী, গত অক্টোবরে দুধ সংগ্রহ হয়েছে ২০ কোটি ৯৫ লাখ কেজি মিল্ক সলিডস। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
এছাড়া মৌসুমের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট সংগ্রহ বেড়ে ৫২ কোটি ৫৯ লাখ কেজিএমএসে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ বিষয়ে ফন্টেরার চিফ এক্সিকিউটিভ মাইলস হারেল বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের অন্যান্য বৃহত্তম উৎপাদনকারী অঞ্চলে দুধের সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে টানা আট নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে।’